Bansai TreeMiscellaneous 

বনসাই নিয়ে মানুষের আগ্রহ বেড়ে হয়ে উঠছে জীবিকা

কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক : শখ থেকে হয়ে উঠছে জীবিকা। বনসাই নিয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন রঙের বাহারি টবে দেখা মিলছে বট, তেঁতুল, শ্যাওড়া, পাকুড়, অর্জুন ও বাবলা-সহ একাধিক গাছ। এই ধরনের গাছের তালিকা দীর্ঘ এবং বৈচিত্র্যে ভরা।

বনসাই নিয়ে নিয়মিত চর্চা করেন এবং খোঁজ-খবরও রেখে চলেন। সবার কাছেই তিনি একটি পরিচিত মুখ। বেহালার পর্ণশ্রীতে তিনি বসবাস করেন। সূত্রের খবর, একপ্রকার গাছের টানেই বজবজে ৬ বিঘা জমি কিনেছেন। এক্ষেত্রে পরিকল্পনা রয়েছে বনসাইয়ের গ্যালারি বানানোর। এই সংক্রান্ত বিষয়ে প্রস্তুতিও রয়েছে পুরোদমে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী জানা গিয়েছে, চিনা শব্দ পেনজাই থেকে জাপানি বনসাই শব্দের উৎপত্তি। বনসাই হল- শক্ত কাণ্ড বিশিষ্ট গাছ। এই শিল্পকেই ২০ বছর ধরে মূলত আঁকড়ে রাখতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। ছোটবেলার নেশাকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। অন্যদিকে ট্রপিক্যাল বনসাই স্কুল থেকে ৩ বছরের আন্তর্জাতিক ডিপ্লোমা কোর্সও করেছেন। জানা গিয়েছে, প্রশিক্ষণ দিতে গিয়েছেন ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপিন্সেও। এছাড়া বিভিন্ন পুষ্প প্রদর্শনীতে তাঁর তৈরি বনসাই প্রশংসা অর্জন করেছে।

এমনকী বিভিন্ন প্রতিযোগিতাতে পেয়েছেন সেরার শিরোপা। আবার বনসাইকে কীভাবে জীবিকা হিসেবে গ্রহণ করা যায়, তারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর মুখেই শোনা গিয়েছে, একটি বনসাই ৫ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা বা তারও বেশি দরে বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, বনসাইয়ের প্রজাতি, আকৃতি ও বয়সের উপর নির্ভর করে এই গাছের গুরুত্ব বাড়ে। অন্যদিকে তাঁর আরও বক্তব্য, সব গাছের বনসাই হয় না। যেসব গাছদের সহ্য ক্ষমতা বেশি এবং দীর্ঘদিন বাঁচতে সক্ষম, সেই ধরনের গাছকেই বেছে নেওয়া হয়ে থাকে। আবার সারা বছরই বনসাই বানানোর প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এক্ষেত্রে বর্ষা হল উপযুক্ত সময়।

কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, বৃষ্টির জলে প্রচুর পরিমাণ নাইট্রোজেন থাকে। যা গাছের বৃদ্ধির পক্ষে একান্ত উপযোগী। বনসাইয়ের পরিচর্যারও প্রয়োজন রয়েছে। বনসাই পুরনো হলে তত মূল্যবান। ব্যবসায়িক দিকও রয়েছে। বনসাই তৈরি করতে গাছ নির্বাচন, মাটি তৈরি, স্টাইল বা নকশা নির্বাচন ও পরিচর্যা করা দরকার। এ বিষয়ে আরও জানা গিয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ক্রান্তীয় আবহাওয়ায় যে সব গাছ বনসাইয়ের ক্ষেত্রে উপযুক্ত তা হল- বট, তেঁতুল, পাকুড়, শেওড়া, কামিনী ও অর্জুন থেকে শুরু করে বোগেনভেলিয়া, ব্রায়া, গন্ধরাজ, টগর, জবা, কাঞ্চন, ক্যালিয়েন্ড্রা, জ্যাকুনিয়া, মালবেরি, বাবলা প্রভৃতি। আবার বর্তমানে নানা ধরনের বিদেশি গাছের বনসাই হচ্ছে। এছাড়া ফ্রুটিং বনসাইয়ের মধ্যে বৈঁচি গাছ, কমলালেবু ও এলাচি লেবু বেশ জনপ্রিয়। আবার আপেল গাছের বনসাই খুব ভাল হয়। বিদেশে বনসাই নিয়ে খুব ভাল কাজ হচ্ছে। সঠিক গাছ নির্বাচনের জন্য নার্সারি থেকে তা কিনতে হয়। গাছ পিছু ব্যয় হবে ৫০ থেকে ১০০ টাকা। বনসাই জগতে রীতিমতো ডুবে থাকা ওই ব্যক্তির নাম প্রসেনজিৎ গুহ।

Related posts

Leave a Comment